রহস্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রহস্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৩

ভুল জীবন - হাসান ইমতি














কাল মাঝরাতে ...
বাতাসের হাতে চিঠি এসে গেছে সকালের খামে,
আকাশের নীল চিঠি পৌঁছে গেছে পৃথিবীর নামে,  
সে চিঠি পৌঁছে গেছে পৃথিবীর গ্রাম থেকে গ্রামে,
আকাশ ডেকেছে নদীকে, দিতে হবে বৃষ্টির শোধ
দিতে হবে অসীমের দাম, দিতে হবে জলজ কাম,
দিতে হবে বৃষ্টির দাম, দিতে হবে বাষ্পীয় ঘাম,
নিতে হবে জোয়ার ভাটার ভালবাসার পয়গাম,  
নদীর বুকে তাই সারাবেলা উথাল পাথাল ঢেউ,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে শুধু গোপন ফিসফাস কানাকানি,
সাগর প্রেয়সী নদী কি নেবে আকাশের পয়গাম ?
সাগরের টানে চলা নদী কি শেষে হবে দ্বিচারিণী ?

যে নদী একদা ছুঁয়েছে সাগরের গহীন লোনা নীল,
সে কি তবে আজ হবে নষ্ট আঁধারের অভিসারিণী,
সুনীল বিপুল আকাশের গোপন রাত প্রেমিকা ?
সে বহতা নদী আজ কি করে কেন এড়াবে নীল
সাগরের চিরন্তন লবণাক্ত কাম?  কি করে দেবে
সাগরের বিশ্বাসের দাম, নদীও কি তবে বেফাঁস
নারীর মত এক হৃদয়ে বহুগামিতা লালন করে?
নদীও কি নারীর মত রক্তের গভীরে বয়ে বেড়ায়
নিষ্ঠুরতার নগ্ন ভ্রূণ, আত্মায় অবিশ্বাসের কাল ঘুণ ?
আমি নারীকে চিনে তাই চিনেছি নদীকেও, আমি
চিনেছি  বৃষ্টি, আকাশ, মেঘমালাকে ও নির্নিমেষ
অনন্ত ছায়াবীথিকে, আমি চিনেছি  পাহাড়, সাগর,
পৃথিবী, সকাল ও রাত্রিকে, আমি চিনেছি, চিনেছি
আলো এবং আঁধারকেও, আমি চিনেছি অনতিক্রম্য
মহাকালকেও, কিন্তু আজও যে চেনা হয়নি আমার
নিজস্ব আমিকে, সবকিছু জেনেও কিছুই যে জানা
হয়নি আজও আমার, ভুল করে ভুল রমণীর ভুল
প্রেমে পথ ভুলে আমি কাটিয়ে চলেছি ভুল জীবন

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

সময় আটকে গিয়েছিলো - হাসান ইমতি

















এক সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মত সূর্যটা আর পাটে গেল না
দিনের কাজ শেষে অফিস ফিরতি গৃহকাতর ক্লান্ত মানুষের
ভীর অবাক বিস্ময়ে বড় দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখতে
পেল ঘড়ির কাটা স্থির হয়ে আটকে আছে দ্বিপ্রহরের ঘরে,
থেমে আছে, নড়ছে না একচুলও, দেখল সময় লটকে আছে
অফিস পাড়ার টেলিফোন টাওয়ারের উচু নেটওয়ার্কে

স্কুল ফিরতি ছেলে মেয়েদের সেদিন আর ঘরে ফেরা হলো  না,
স্কুলের ঘণ্টা বাজলো না, কোন  ক্লাস হলো না, পড়া দিতে হল না,
টিফিন হলো না, অদ্ভুত চোখে  সবাই দেখল সময় লটকে আছে
পুকুর পারের বড় জামরুল গাছটার সবচেয়ে উচু মগডালে

দোকানী দোকান ফেলে দুপুরের খাবার খেতে গেল না,
ঘরের বউয়েরা উনুনে রান্নার চাল তুলে দিতে ভুলে গেল,
পত্রিকাওয়ালারা সেদিন আর নতুন কোন খবর ছাপলো না,
তাই কেউ জানতেও পারলো না আজ দ্বিপ্রহরে সময় লটকে
গেছে ঊর্মিলাদের আকাশ ছোঁয়া সাদা বাড়ীটার ছাদের কার্নিশে

সময় আটকে গেছে বলে সেদিন বুড়ো ইসকান্দর মালীও
রোজকার মতো গোলাপ  বাগানে নিয়মের জল দিতে ভুলে গেল,
সময় আটকে গেছে বলে পাখিরা আর ঘরে ফিরে এলো না,
সময় আটকে গেছে বলে সবুজ কৃষ্ণচুড়ার লাজুক কলিগুলো
আর মুখ তুলে লাল কৃষ্ণচুড়া হয়ে ফুটে উঠে হৃদয় রাঙাল না,
সময় আটকে গেছে বলে প্রেমিক স্বামী তার সদ্য বিবাহিত
তরুণী বঁধুর জন্য আলতার লাল আনতে ভুলে গেলো সেদিন

সময় আটকে গেছে বলে শাহবাগ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ঢাকার
সবচেয়ে ব্যস্ত তুমুল রাজপথ ভরদুপুরে থাকলো শুনশান নিস্তব্ধ,
সময় আটকে গেছে বলে গাড়িগুলো অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়া
বেফাস নেতাদের মত মাঝ রাস্তায় নিশ্চুপ দাড়িয়ে রইলো,
স্থির পৃথিবীর কোন যাত্রী আর তার গন্তব্যে যেতে পারলো না  
সময় আটকে গেছে বলে গলির মোড়ে শুয়ে থাকা নব্বই বছরের
বুড়ো আইজুদ্দিন আর তার পুরনো সেই শ্বাসকষ্টে ভুগলো না,
সময় আটকে গেছে বলে পাড়ার মোড়ের প্রতিষ্ঠিত ভিখারিটাও
ভিক্ষার বাটি হাতে চুপচাপ বসে রইল, ভিক্ষা চাইলো না,
সদ্য ঘুমভাঙা শিশুটি অবাক বিস্ময়ে দেখল সময় লটকে
আছে রাস্তার মোড়ের সবচেয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায়

সময় আটকে গেছে বলে যে যার স্থানে স্থির হয়ে রইলো,
কেউ একচুল সামনে বা পিছনে এগোল বা পিছলো না,  
সময় আটকে গেছে বলে আমার কলম কেপে গেলো ,
আজ আর হৃদিয়ের জমিতে কোন কবিতার চাষ হল না,
সময় আটকে গেছে বলে আমার নরম প্রেয়সীর রোদেলা
চোখ থেকে কিছুতেই আমার চোখ থেকে আর সরলো না,
আমাদের কারো চোখেই আজ কিছুতেই পলক পড়লো না,
সময় লটকে রইলো আমাদের মাঝে এক অলঙ্ঘ্য বন্ধন হয়ে
বাকি পৃথিবী না জানলেও মুহূর্তকে অমর করে দিয়ে সত্যিই
সময় লটকে গিয়েছিল প্রেয়সীর চোখের লাজুক হাসিতে

 বি দ্রঃ সময় কখনো আটকায় না, তবে কোন কোন ঘটনায় মানুষ আনন্দ
বা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় তখন কিছু সময়ের জন্য হলেও বাকি পৃথিবীটা
চললেও ঐ মানুষটার মন জগতে সময় থমকে যায়


বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

কবিতা - হাসান ইমতি


















তোমরা যারা কবিতাকে কাগজের বুকে কালির আঁচর বলে জান
তারা কবিতাকে চেনো কি ?  কবিতারও প্রাণ থাকে, জীবনবোধ থাকে,
অনুভূতিবোধ থাকে, ব্যথা, বেদনা, ক্লান্তি, কাম, ক্ষুধা, জন্ম,
যৌবন, জরা, জয় পরাজয় সব থাকে ঠিক মানুষেরই মতো ,
কেউ কেউ বোঝে, কেউ কেউ বুঝতে চায়না, কেউ কেউ বোঝেনা

একটা কবিতা জন্ম দেব বলে আমি কাগজ কলম হাতে নিয়েছি,
এখন আমার সমস্ত চেতনা নীল হয়ে আছে  কবিতা জন্মের প্রচণ্ড
প্রসব ব্যথায়, গর্ভবতী মায়ের প্রসব বেদনার মতো সুতীব্র বেদনায়
আমার সমগ্র সত্তাকে আছন্ন করে জন্ম নেয় এক নগ্ন কবিতা শিশু

ক্রন্দনরত সদ্যজাত শিশু কবিতা শুয়ে  থাকে  কাগজের আতুর ঘরে
সাদা কাগজের জমিনে শুয়ে থাকে কবিতার কালো শরীর তোমরা
এই সদ্যজাত কবিতা শিশুর লিঙ্গভেদ নিয়ে তর্কলিপ্ত হতে পারো,  
জেনে রাখো মানুষের মতো লিঙ্গভেদের ক্ষুদ্রতায় ধরা পড়ে না কবিতারা

একই কবিতার শরীরে নারী, পুরুষ, জন্ম, জরা, হাসি, কান্না, অভিযোগ
অভাববোধ, ভালোবাসা, বিরহ, পাপ, পুণ্য, ক্ষোভ, কাম, স্পর্ধা, লোভ
সব, সব জড়িয়ে থাকে, কবি তার ইচ্ছের স্পর্ধায় বিনির্মাণ করে
কবিতার শরীর, আমার এই সদ্য ভূমিষ্ঠ কবিতা, আমার থেকে
পিতা মাতার ভালোবাসা, পূর্ব পুরুষের স্নেহ নিয়ে বেড়ে উঠে, তার
খাদ্য সবুজ প্রকৃতি, মৃদু হাওয়া, উত্তপ্ত সূর্য, রাতের চাঁদ, আকাশের তারা,
নারীর প্রেম, পুরুষের শৌর্য, আরও কত কি সময়ের স্রোতে শৈশবে  
পৌঁছে পাল্টে যায় কিশোর কবিতার বিষয়বস্তু, মা বাবার স্নেহ, সততা ও
আদর্শের শিক্ষা, চরিত্র গঠন, সামাজিকতা ও মূল্যবোধ এই সব
শিখতে শিখতে শিশু কবিতা পৌঁছে যায় সুতীব্র যৌবনের ঘূর্ণিস্রোতে,
বড় বেপরোয়া সে যৌবন, প্রেম, বিরহ, কাম, ক্ষুধা, প্রতারণা, পাওয়া
না পাওয়ার কঠিন ও অসম সমীকরণ গতির পূজারী, শক্তির পূজারী
যৌবন, সে তার তার সুতীব্র গতিতে সব ভেঙ্গে চুরে নতুন করে গড়ে
তোলে তার নিজের ছাঁচেতার শক্তির কাছে হার মানে বাদবাকি অস্তিত্ব

সব কবিতার খাতায়ই যৌবনের কবিতার জয়জয়কার, যৌবনের কবিতাকেই
তোমরা প্রেমের কবিতা বল, বিরহের কবিতা বল , যৌবনের কবিতাকেই
তোমার কবিতা বল যৌবনের জয়গান গাওয়াকেই তোমরা কবিতা বল
যৌবনের কবিতার পর প্রেক্ষাপটে আসে প্রৌঢ়ত্ব, সমৃদ্ধি, সংসার, সন্তান,
আয়, উন্নতি প্রৌঢ়ত্বের কবিতার মুল উপজীব্য প্রৌঢ়ত্বের পর প্রেক্ষাপটে
আসে বার্ধক্য,  আধ্যাত্মিকতা , ধর্ম, জীবন, ইহকাল, পরকাল এইসব
জুড়ে থাকে বার্ধক্যের শরীর জুড়ে এরপর কি ? মৃত্যু ? না না না,
কবিতার মৃত্যু নেই, বার্ধক্য শেষে কবিতা আবার ফিরে যায় নতুন জন্মে,
জন্ম, শৈশব, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব, বার্ধক্য এই ভাবে, এই চক্রে চলতে থাকে
কবিতার চক্রাবদ্ধ জীবন কাহিনী, এই কবিতার জীবনচক্র, এই কবিতা

হাসান ইমতি 

স্বরচিত
হাসান ইমতির কবিতারা 

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

অধরা - হাসান ইমতি

















আকাশের নীল রঙ তোর ছিল ভীষণ ভীষণ
প্রিয়, সেই আকাশের নীল নীলাম্বরী সাজে
তুই তোর নিজেকে রাঙাতে ভালোবাসতিস,
আকাশের নীল রং ছিল তোর শরীরে,সাজে,
চেতনায়, তোর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে ছিল শুধু
নীলের কারুকাজ,শুধু নীলের জয়জয়কার তাই
কি তুইও আকাশের মত অধরা রয়ে গেলি ?
অনেক দূরে বলে আকাশকে ছুতে পারিনি
এতো কাছে, এতো পাশে আকাশ রঙা তুই ,
এতো ইচ্ছে তোকে একটু ছুঁই, তবুও কত দূরে
তারপরও তোকে ছুঁতে  পারিনা একদমই
নীল আকাশরঙ্গা তুইও যে কেবলই
নীল আকাশের মতোই অধরাই থেকে যাস
আমার স্বপ্ন থেকে,
আমার চিন্তা থেকে,
আমার অনুভব থেকে
আমার জীবন থেকে,
আমার বাস্তবতা থেকে,
ঐ বিশাল নীল আকাশের মতই,
কেবলই অধরা থেকে যাস তুই
আমাকে কেবল ছোঁয় তোকে না ছুঁতে পারার
নীল কষ্টের আকাশের চেয়ে বিস্তীর্ণ শরীর



হাসান ইমতি 

স্বরচিত
হাসান ইমতির কবিতারা 

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

তোমায় ভালোবেসে যাব চিরদিন কিন্তু কোনদিন আমি তোমার হবো না - হাসান ইমতি















আমি অন্তহীন পথের অক্লান্ত যাত্রী এক, এই
পথই আমার ঘর, পথই আমার বাড়ী, নিরন্তর
পথ চলাতেই আমার সুখ, শিকড়হীন ভাসমান
শ্যাওলার মতো, তীরহারা উদভ্রান্ত নাবিকের মতো,
বাস্তহারা যাযাবরের মতো, কুলহারা ঢেউয়ের মত
স্বপ্নহারা আমি বহুকাল ঘুরে বেড়িয়েছি গন্তব্যহীন
এই গন্তব্যহীন পথে অবিরাম চলতে চলতে আমি
পথচলাকেও ভালবেসেছি, ভালবাসতে শিখেছি
পথকেওআজ আমি আর কোন পিছুটান চাইনা,
কোন মানবিক বন্ধনকে আজ বড়ো ভয় আমার
আজ  কোন মানুষের কাছে আমি আর ভালোবাসার
প্রতিদান চাইনা, শর্তহীন আমার ভালোবাসা মানবীয়
ছলনার নীল বিষে পুড়ে আজ হয়েছে খাঁটি কোন
অপূর্ণতাই আজ আর কষ্ট দিতে পারেনা স্বপ্নহারা
আমাকে কোন মানবিক বন্ধন আজ আর পিছুটান
হয়ে আমার পথ আগলাতে পারে না কিছুতেই   
তাই তোমায় ভালোবেসে যাব চিরদিন
কিন্তু কোনদিন আমি তোমার হবো না



শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৩

অধরা - হাসান ইমতি
















আকাশের নীল রঙ তোর ছিল ভীষণ ভীষণ
প্রিয়, সেই আকাশের নীল নীলাম্বরী সাজে
তুই তোর নিজেকে রাঙাতে ভালোবাসতিস,
আকাশের নীল রং ছিল তোর শরীরে,সাজে,
চেতনায়, তোর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে ছিল শুধু
নীলের কারুকাজ,শুধু নীলের জয়জয়কার তাই
কি তুইও আকাশের মত অধরা রয়ে গেলি ?
অনেক দূরে বলে আকাশকে ছুতে পারিনি
এতো কাছে, এতো পাশে আকাশ রঙা তুই ,
এতো ইচ্ছে তোকে একটু ছুঁই, তবুও কত দূরে
তারপরও তোকে ছুঁতে  পারিনা একদমই
নীল আকাশরঙ্গা তুইও যে কেবলই
নীল আকাশের মতোই অধরাই থেকে যাস
আমার স্বপ্ন থেকে,
আমার চিন্তা থেকে,
আমার অনুভব থেকে
আমার জীবন থেকে,
আমার বাস্তবতা থেকে,
ঐ বিশাল নীল আকাশের মতই,
কেবলই অধরা থেকে যাস তুই
আমাকে কেবল ছোঁয় তোকে না ছুঁতে পারার
নীল কষ্টের আকাশের চেয়ে বিস্তীর্ণ শরীর



হাসান ইমতি 

স্বরচিত
হাসান ইমতির কবিতারা 



স্পর্ধিত স্পর্শ - হাসান ইমতি

















তোমার করতল ছুঁয়ে যে নদী সাগরে নেমেছে,
সে তো তোমার স্পর্শকেও বুকে নিয়ে গেছে
আমি সাগরকে ছুঁয়ে তাই ছুঁয়েছি পাহাড়কেও,
নদী, মেঘ বৃষ্টিকে ছুঁয়েছি, ছুঁয়েছি তোমাকেও

তোমার বাঁধভাঙ্গা হাঁসি যে বাতাসে মিশেছে  
সে বাতাসও তো তোমার খুশিতে হেসেছে
সে বাতাসকে ছুঁয়ে আমি ছুঁয়েছি জীবনকেও,
ছোটখাট মানবিক খুনসুটিকে, ছুঁয়েছি তোমাকেও

তোমাকে যে ছুঁয়েছে মানবিক গভীরতায় সে
কি কভু নিঃসঙ্গ হতে পারে বনসাই রাজকন্যা ?

তোমার হাসিতে যে কষ্ট ভুলেছে সে কি কভু
সুদুরের অচিন মানুষ হয় বনসাই রাজকন্যা ?

পিছুটান - হাসান ইমতি

















বহুদিন পর আজ আবার তোমার নাম শুনলাম,
কিছু সময়ের জন্য, অল্প কিছুক্ষণের জন্য যেন
সময় থমকে গিয়েছিল, সহসা বুকে জমে থাকা
অনেক অনেক পুরনো কথা মনে পরে গিয়েছিল,
মনে  হয়েছিল পিছে ফেলে আসা অতীতের সেই
পুরনো স্মৃতিময় পৃথিবীতে আবার, আর একবার
ফেরা গেলে খুব ভাল হত, কিন্তু এতো কাছাকাছি
এসেও আমাদের মাঝে আজ সহস্র আলোক বর্ষের
যোজন যোজন দূরত্ব, মানুষ সহজেই বদলে যায়  
সময়ের পাকে, জীবন বদলে যায় নিয়তির বাঁকে,
নতুন পুরানো হয়, হারিয়ে যায় প্রবাহমান সময়ের  
হাতছানিতে, প্রতিনিয়ত জীবনের পুরনো গতিপথ
বদলে যায় বহমান নদীর গতিধারা বদলের মতো,
কিন্তু নদীর কি ফেলে আসা পথের জন্য কষ্ট জমা  
হয়ে থাকে মানুষের ফেলে আসা জীবনের মতো ?
যে কুল একদা ভেঙ্গে গেছে তার অভাব বোধ কি
না থাকার শূন্যতায় ভরে রাখে আগামীর পথ চলা ?

রোমন্থন - হাসান ইমতি

















স্বার্থপর জগতে লাভক্ষতির হিসাবজালে বন্ধী মানবদর্শন,
পাওয়া না পাওয়ার ঘূর্ণাবর্তে লক্ষ্যভ্রষ্ট মানবতার প্রতিসরন
তবু এই পরিবর্তনশীল সময়ের বেদনাহীন বুকে দাড়িয়ে
করুন নিয়তির মত বড় কান্নাভেজা প্রশ্ন জাগে বারবার
আজ কেমন আছে ফেলে আসা সময়ের কিছু প্রিয় মুখ?

আমার অনুপস্থিতি কি শূন্যতা হয়ে আছে তাদের চেতনায়?
এই স্বার্থহীন প্রশ্ন গুলো আমাকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায়,
এই অবান্তর প্রশ্নগুলো কষ্টের আদলে শুধু প্রশ্নই থেকে যায়,
থেকে যাবে, হয়তো এসবের জবাব মিলবে না কোনকালেই,
আমি হয়তো প্রথাগত নিয়মের কোন হিসেবী মানুষ নই,
প্রথাগত মানুষদের  ঘর থাকে, সংসার থাকে, নিজেদের
একটা জগৎ থাকে, এই সব ঘিরেই তাদের যত হিসাব নিকাশ,
খুব দ্রুত তারা সব শিখে নেয়, খুব দ্রুত নিজেদের বদলে নেয়,
শুধু আমি বেহিসাবী থেকে যাই বরাবর, লাভক্ষতির হিসাবে,
যোগ বিয়োগের অংকে আমার  বরাবরই খুব ভুল হয়ে যায়

মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে, আপাত এইসব মানুষগুলোরও
কি মন কাঁদে ফেলে আসা পথের কথা ভেবে, রাত্রির গহীনে,
বৃষ্টি ভেজা কোন একাকী মুহূর্তে, কোন গোপন নিঃসঙ্গতা কি
স্পর্শ করে, হয়তো করে, হয়তো করে না, হয়তো কাঁদে
হয়তো কাঁদে না, এইসব প্রশ্নের আসলে গড়পড়তা কোন
উত্তর হয় না, যে যার মতো করে তার হিসাব নিকাশ রাখে

আমার এই ক্ষত শুধু আমার একান্ত একার, আমি জনসম্মুখে
এই ক্ষত লুকিয়ে রাখি,  ফেলেআসা স্মৃতিঘেরা মানুষদের
কাছে কখনো ফিরে যাই না, ফিরে যেতে হয় না, ফিরে গেলে
না কখনো আজকের বদলে যাওয়া এই মানুষদের মাঝে সেই
মানুষদের ফিরে পাওয়া যায়, না প্রিয় স্মৃতি ধরে রাখা যায়,
ফেলেআসা স্মৃতিঘেরা মানুষদের কাছে কখনো ফিরে যেতে নেই,
সেই মানুষগুলোকে স্মৃতিতেই  রাখতে হয়, ফিরে যেতে হয় না

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...